xmlns:fb='http://ogp.me/ns/fb#'> ময়মনসিং অঞ্চল সাইক্লিংঃ৩য় ও ৪র্থ দিনঃদুর্গাপুর-সুসং-চীনামাটির দেশ ঘুরে ময়মনসিং-কিশোরগঞ্জ-নরসিংদী হয়ে ঢাকা |Bappi

U also may b interested in these posts

 

Floadting Share

Get Widget

Sunday, April 19, 2015

ময়মনসিং অঞ্চল সাইক্লিংঃ৩য় ও ৪র্থ দিনঃদুর্গাপুর-সুসং-চীনামাটির দেশ ঘুরে ময়মনসিং-কিশোরগঞ্জ-নরসিংদী হয়ে ঢাকা

তৃতীয় দিন শুরু করি ফজরের নামাজ পরে, হোটেল থেকে বেড়িয়ে দেখি পিছের চাকায়  বাতাস কম কম, হাওয়া দিয়ে  এরপরে আবার শুরু করি সোমেশ্বরী এর দিকে। তখনো ট্রলার চলাচল শুরু হয় নাই বলে বেশি টাকা দিয়ে একটা ডিঙ্গি তে করে সোমেশ্বরী পাড় হই। সেখানেই সেদিনের সূর্যোদয়। প্রায় সবুজ পানিতে সূর্যোদয় টা আসলে অনেক সুন্দর লাগতেছিল।  আমার দেখা সেরা কিছু সূর্যোদয় এর এটা একটা ছিল... এত সুন্দর যে কি বলব...
[Click on the each photo to see in better view, or CLICK HERE for the FACEBOOK PHOTO ALBUM.]




 এরপরে শুরু হয় বালু ঠেলে হাটা...  সোমেশ্বরী এর ৯৫% ই বালি, বাকি ১% পানি এর জন্য নৌকা তে উঠতে হয়। :D সমস্যা হল যে আমার ব্রেক এর ডিস্ক এ বালি ধুকে বেশ প্রব্লেম করতেছিল। বেশ প্যারা পেয়ে অনেক কষ্ট করে পানি দিয়ে ধুয়ে মুয়ে এই বালির হাত থেকে রক্ষা পাই। ফেরার পরে আর রিস্ক নেই নাই। একেবারে ঘারে করে সাইকেল নিয়ে পার হইছি।

যাই হোক, সেটা পাড় হয়ে প্রথমেই চলে গেলাম বিজয়পুর  বিজিবি ক্যাম্প এ, একেবারে বর্ডার এর কাছে, ছবি তুলতে দেবে না দেবে না করেও শেষ পর্যন্ত পরিচয় আর সাইক্লিং এর পাগলামি এর কথা শুনে দিলে, তাদের নৌঘাটের নৌকায় উঠাল, তাদের ক্যাম্পে ঘুরতে দিল। সেখানে তাদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে সেখান থেকে তাদের কাছে ডিরেকসন নিয়ে চলে আসি খ্রিষ্টান মিশনারি তে। 

প্রবেশ করতে হয় বেশ উচুতে উঠে... আমি সেই পাহাড়ের মতো জায়গায় আপহিল মারতে মারতে উঠেছিলাম। সেই লেভেলের কষ্ট হইছিল, তবুও ইচ্ছে বলে কথা। উঠার পরে থেমে কুত্তার মতো জিব্বা বের করে হাপাইছিলাম। :D যারা যারা সেখানে গেছেন তারা জানেন কি রকম একটা আপহিল সেটা, হেটে উঠতেই ঘাম ছেরে যায়।

প্রবেশের মেইন গেটেই লেখা, “ভয়ংকর কুকুর হইতে সাবধান...!!!” আমার আবার কুকুর খুব পছন্দের, খুব সহজেই কুকুর পোষ মানাইতে পাড়ি বলে একটা রেপুটেসন আছে আছে। সো এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিলাম। প্রবেশ করার সাথে সাথেই ৫ টা কুকুর সেই হারে চিল্লাইতে চিল্লাইতে লাফাইতে লাফাইতে এলো। কিন্তু দুই মিনিটের মাঝেই ৪ টা কুকুর কে বশ করে ফেললাম, কিন্তু একটাকে পারতেছিলাম না। এগিয়ে এলো দুই গারো তরুণী, “মাথার টুপিটা খুলেন তাইলে থামবে”
...বুঝলাম হেলমেট খুলতে হবে। :D
হেলমেট খোলার একটু পরেই সব শান্ত। :D যাইহোক, সেখানে বেশ কিছুক্ষন সময় ব্যয় করে চলে গেলাম চিনা মাটির পাহাড় আর সবুজ পানির লেক এর সন্ধানে। 
আগেই জেনে নিছিলাম, ম্যাপেও দেখে নিছিলাম। ফলে চলে গেলাম সেদিকে। যেতে গিয়ে একটা মেলা পেয়ে থামলাম। আগের দিনে জানতে পেরেছিলাম রাশমনি মেলা। ৫ দিনের জন্য শুরু হইছে... সেই কপাল আমার।  J নইলে আমিও আসলাম, আর রাশমনি মেলাও শুরু। তখনও বেশ ভোর বলে মেজা কেবল জমে উঠতে ছিল। ফলে সেখানে বেশি সময় স্পেন্ড কড়া সমীচীন মনে করলাম না। :D সেখানে বেশ কিছু সময় থেকে চলে গেলাম চিনামাটির পাহাড়ে।
নির্জন, কোথাও কেউ নাই। হরতাল বলে পর্যটক নাই একজনও। খালি মাঝে মাঝে কিছু মানুষকে দেখা যাচ্ছে যারা চিনামাটি সংগ্রহ করতেছে। সেই পাহাড়ে শুরু হল সাইক্লিং। আপহিল আর ডাউনহিল। তারপরে দেখলাম সেই সবুজ পানির লেক। স্থানীয়রা অবশ্য একে নীল পানির লেক বলে। আসল কালারের নাম হল ফিরোজা কালার। এখানে বলে রাখা ভালো, আমি কালার ব্লাইন্ড না, খালি কালারের নাম জানি না। :p
 যা বুঝলাম এই চিনা মাটি উত্তলনের জন্য খনন করে করে এই সব লেক এর জন্ম হইছে...  এবং হচ্ছে...
এই লেকের পাড়েরই হল এখানকার সব থেকে উচু পাহাড়টা। আমি অনেক কষ্ট করে এখানে সাইক্লিং করে করে উঠেছি। আবার নেমেও এসেছি... আর আমার এই পাগলামি দেখে এখানকার মানুষরা সেই লেভেলের অবাক। :O এরকম পাহাড়ে কেউ সাইক্লিং করতে পারে সেটা তাদের চিন্তাও ছিল না... :D
       যাইহোক সেখানে বেশ কিছুক্ষন ছিলাম... বেশ কিছুক্ষন মানে অনেক ক্ষণ। সব জায়গা ঘুরে দেখলাম, অনেক ছবি, ভিডিও করলাম। চিনামাটির উত্তলন দেখলাম, তারপর বেশ কিছু চিনামাটির আকরিক আমি নিজেও কালেক্ট করলাম। বিভিন্ন কালারের অনেক গুলান। কিন্তু শেষে দেখি যে সব গুলা মিলায়া প্রায় আধা কেজির উপরে ওজন। :’( এতো তো আর নিতে পাড়ি না, সো বেছে বেছে কিছু আলাদা করে পলিথিনে মুরিয়ে নিয়ে চলে আসি...
        

এরপরে আর কোথাও থামাথামি নাই... এক্কেবারে রাশমনি মেলায় এসে থেমেছিলাম। আমার ভাগ্য টা এতোই ভালো যে কি বলি, ফেব্রুয়ারি এর ১ তারিখ থেকে ৬ দিন ব্যাপী রাশমনি মেলা শুরু হয়েছে। J সেখানে বেশ কিছু সময় থেকে পরের টানে একেবারে দুর্গাপুর বাজারে এসে থামি। সেখানে পরিচিত এক হোটেলে সকালের খাবার খেয়ে যাত্রা শুরু করি ময়মনসিং এর দিকে... ইচ্ছে করে নেত্রকোনা সদরে গেলাম না, পরের এক রাইড এ সেখানে যাব আশা করি।
রাস্তা বেশ বাজে...  শান্তি নাই... আর ড্রাফটিং পাবো সেই আশাও নাই। হরতাল চলে তখন। :’( একটা বেশ ভালো মানের ড্রাফিটিং পেয়েও ছেড়ে দিছি, কারন আর কিছুই না, রাস্তা প্রচণ্ড রকমের বাজে। অবশ্য এর আগে এমন বাজে বাজে রাস্তায় গেছি যে তার কাছে এটা কিছুই না বললেই চলে, তবুও ৩ দিন পরে বেশ পেইন দিচ্ছিল।
এখানে পথে একটা রোমান্টিক এক্সিডেন্ট ঘটে যায়। :D হ্যা হ্যা... এক্সিডেন্ট টাও আবার রোমান্টিক... ;)
       আমার সাথে যারা যারা সাইক্লিং করেছে তারা জানে, বেইলি ব্রিজ এর উপরে আমার বেশ একটা দুরবলতা আছে... বেইলি ব্রিজ এর উপর সাইকেল চালালে এত্তো সুন্দর পু পু সাউন্ড করে যে বলার মতো না... আর এই সাউন্ড টা আমার অনেক প্রিয়। তো এরকম একটা বেশ লম্বা বেইলি ব্রিজ আছে কিন্তু এদিকে... সেটা পেয়ে তো আমি এক্কেবারে সোনায় সোহাগা। :D আমারে আর পায় কে... দিলাম সেই লেভেলের একটা টান...


       আর সেই পু পু সাউন্ড শুনতেছিলাম তন্ময় হয়ে... ব্রিজের এক সাইডে তিনটা মেয়ে যাওয়া দেখলাম। যাচ্ছি তো যাচ্ছিই। হুট করেই তাদের একজন ব্রিজের মাঝখানে ঠিক আমার সামনে। এক্কেবারে হুট করেই... আমার কিচ্ছু করার নাই। ব্রেক ধরলাম। কন্ট্রোল নাই দেখে সাইকেল ছেড়ে দিলাম
আর কিসের কি সাইকেল গিয়ে ধাক্কা খেল এক জনের সাথে আর আমি একজনের সাথে... L
বাংলা মুভি তে দেখি যে নায়ক নায়িকা এরকম গড়াগড়ি খাবার পরে হয় নায়ক নয়তো নায়িকা উপরে থাকে,আর একজন নিচে। কিন্তু পোড়া কপাল, এরকম কিছু হল না। আমি আর যার সাথে ধাক্কা খেলাম দুজনেই পপাত ধরণিতল হলাম ঠিকই কিন্তু পাশাপাশি পরে রইলাম। আর আমার মাথার নিচে সেই মেয়ের হাত। মানে আমি আসলে ওই মেয়ের হাতের উপরে  শুয়ে ছিলাম। :D 3
তো সেই মেয়েটা যখন উঠতেছিল তখন তার মুখ থেকে নেকাব টা এক মুহুরতের জন্য সরে গেছিল। আর তাতেই আমি তার অপাড় সুন্দর চোখ দুটি দেখেছি। শুধু কয়েক সেকেন্ড এর জন্য... দেখেই আমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলাম... যে এ আমি কি দেখলাম...!!!    মানুষের চোখ এমন রকমের সুন্দর হয় কেমন করে...!!!   ♥

       আমার চোখ বন্ধ করে থাকা দেখে তারা ভয় পেয়েছিল তাদের কথা শুনেই সেটা বুঝতে পেরেছিলাম। ভাবলাম একটু ফান করেই দেখি... আমিও আর চোখ না খুলেই সেখানে চোখ বন্ধ করেই শুয়ে থাকলাম। তারা বেশ ভয় পেয়ে গেছিল। মনে করেছিল আমি মনে হয় অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। :D আবার আশেপাশেঅ কেউ কোথাও নাই...  তারা তো পরে আমাকে ধাক্কাধাকি করে টেনে উঠিয়ে বসিয়েছিল। :D আমার ব্যাগের পানিই আমাকে খাইয়েছিল। :D
আমাকেই পরে সরি বলে দিল। আমি শুধু বললাম, দেখ আপুরা, তোমরাই বল আজকের এই এক্সিডেন্ট এর জন্য কে দায়ি...? যাইহোক, জার্সি এর পকেটে পাকা পাকা বড়ই ছিল, আসার সময় তাদেরকে বেশ কিছু দিলাম। আর যার চোখ দেখেই ক্রাশ খাইছিলাম তারে শুধু বলে এলাম যে , “তোমার চোখ দুইটা অনেক বেশি রকমের সুন্দর” বলেই সাইকেলে এক টান। আর পিছনে ফিরে তাকাই নাই। তবে হ্যা, আসলেই ওই মেয়েটার চোখ দুইটা সেই রকমের সুন্দর। আমার দেখা এখন পর্যন্ত সব চেয়ে সুন্দর চোখগুলার মধ্যে অন্যতম। ♥ ♥ ♥ ♥

যাইহোক এরপরে আর কোথাও থামা থামি করি নাই। এক্কেবারে ময়মনসিং এ এসে থেমেছি। মাঝে একবার শুধু চা পান আর ছোট কাজ করার জন্য থেমেছিলাম। হিসেব করেছিলাম যে ১২ টার মধ্যে পৌছাবো, ঠিক ১১.৫০ এ আসি। এসেই এখানকার শহীদ মিনারে যাই, কিন্তু সেটা তালাবন্ধ পাই। পরে দেয়াল টপকে ভিতরে যাই। :D
এরপরেই এক ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করি। আসলে আমার সাইক্লিং এর ফ্যান। এইবারই প্রথম দেখা। বার বার বলে দিছিল অবশ্যই যেন দেখা করি। এসে দেখি সে বাসা থেকে আমার প্রিয় নুডলস রান্না করে এনেছে। দুজনে মিলে সেটা শেষ করলাম।


এরপরে প্রথমেই চলে গেলাম জয়নুল সংগ্রহশালা দেখতে। সেটা দেখতে দেখতেই ১ ঘণ্টার বেশি সময় চলে যায়। আসলে তার এতো এতো আর্ট যদি না দেখেই ফিরি সেটা হয় না। আবার এসেও যদি সব না দেখি সেটাও তো হয় না...



 এরপরে এলাম জাদুঘরে, সেখানে আরও আধা ঘণ্টা। এরপরে ময়মন্সিং গার্লস ক্যাডেট কলেজ আর মেডিকেল কলেজ দেখে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ দেখে চলে যাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর হলে। সেখানে ফ্রেন্ড আছে। সে বলে দিছিল অবশ্যই যেন তার কাছে যাই। না গেলে খবর আছে। যাই হোক সেখানে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নামাজ আদায় করে খেয়ে একটা পাওয়ার ন্যাপ নেই ১৫/২০ মিনিটের জন্য।




এরপরে শুরু করি গফরগাঁও ডে দিকে যাত্রা ঠিক ৩.২৫ এ। ময়মনসিং এ প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা চলে যায়। এটা কখনো চিন্তাও ছিল না। এখানে প্লানিং এ একটা ভুল ছিল। ময়মন্সিং থেকে কিশোরগঞ্জ হাইওয়ে ধরে না গিয়ে আমি রুট বানাইছিলাম একেবারে গফরগাঁও এর গ্রামের রাস্তা ধরে। আর ঠিক এখানেই আমার ভুল। কারন এদিকের রাস্তা তখন সংস্কার করতেছিল বলে সেই লেভেলের খারাপ ছিল। সেই পেইন পাইছি। পরে গুগল ম্যাপ আর লোকজনের কাছ থেকে ডিরেকসন দিয়ে নান্ডাইল এর দিকে সেই কাঙ্ক্ষিত হাইওয়ে তে উঠি... কিন্তু ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে গেছে। আর এর আগের দিনে হালুয়াঘাটের দিকের এক্সিডেন্ট এর ফলে হেড লাইট ও নষ্ট হয়ে আছে। ফলাফল বিপদের গন্ধ অনুভব করা শুরু করলাম।
আবার মাথার উপরে চাঁদ দেখে কিছুটা আশা পাই... চাদের আলোয় কিছুটা হলেও  পথ চলা যাবে... এরকম করে জেতে জেতে পেয়ে গেলাম একটা ইজি বাইক। তারে চলন্ত অবস্থায় সব বললাম, তাকে জানালাম তার পিছে পিছে ড্রাফটিং করতে করতে যাব যতদূর তিনি যান। এভাবে অর্ধেক পথ পারি দেই, তিনিও অন্য দিকে চলতে থাকেন।
এরপরেই একেবারে জ্যোৎস্নায় শুরু হয় আমার পথ চলা... আসলে হেড লাইট নষ্ট হয়ে বেশ ভালই হইছে বলে মনে করি, কারন নইলে এরকম সুন্দর একটা জ্যোৎস্নায় সাইক্লিং করতে পারতাম না। প্রায় নির্জন রাস্তা ধরে জ্যোৎস্না উপভোগ করতে করতে চলতে থাকি কিশোরগঞ্জ এর দিকে। যে বন্ধুর বাসায় (রুবায়েত আফসান অংকন) থাকার কথা সে বারবার ফোন দিচ্ছিল আমি এখনো পৌছাই না কেন?
এরপরে আবার একটা ইজি বাইক পাই, শুরু করি সেটার পিছেও ড্রাফটিং, এরপরে টানা কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত। জদিও স্পিড প্রায় আমার সময় ২৩/২৪ কেএমপিএইচ করে ছিল, তবুও অন্ধকার রাতে সেটা কিন্তু খারাপ না। যাই হোক, সাড়ে সাত টার দিকেই পৌঁছে যাই আমার বন্ধুর বাসায়। সেখানে সেই লেভেলের খাওয়া দাওয়া করে নামাজ আদায় করে ঘুমাতে যাই ১০ টার দিকে। J এভাবেই শেষ হয় আমার তৃতীয় দিন।


_____________________________________________________________________________



৪র্থ দিনঃ
এই দিনে মাত্র ১২০ কিমি. এর মত সাইক্লিং করে ঢাকায় ফেরা বলে অনেকটা রিল্যাক্স মুডে শুরু করার প্ল্যান ছিল। ৮ টার দিকে শুরু করতে চাইলেও অ্যান্টি কোন মতেই আমাকে ছাড়বে না। আমাকে না খাইয়ে আসতেই দিবে না। এই হল এক প্যারা... আগের রাতেই বলে রেখেছিলেন, ফলে সেদিন সকালে ফজরের নামাজ পরেই বন্ধুর বাবার কবর যিয়ারত করতে যাই। তারপর তার দাদার বাসায় বেড়াতে যাই... সেখান থেকে এসে খাওয়া দাওয়া সেরে বের হতে হতে সকাল ১০ টা বেজে ১০ মিনিট। L এখানে বলে রাখি, আমি অংকন এর বাসায় থাকলেও সে নিজে কিন্তু ছিল ঢাকায়। তখন সে বসে বসে পরিক্ষার জন্য প্রিপারেসন নিচ্ছিল, আর আমি তার বাসায় গিয়া তার আম্মুর হাতের রান্না টেস্ট করতেছিলাম। :v  :D
যাই হোক, বাসা থেকে বের হয়েই ভাইয়া এর কাছ থেকে ডিরেকসন নিয়ে চলে যাই শোলাকিয়া মাঠে। বাংলাদেশ এর সব চেয়ে বড় ঈদগাহ। ^_^ ^_^ সেখান থেকে ফিরে পাগলা মসজিদ এ এসে আগের দিনে দেখে রাখা বাতাসা কিনি এক কেজি। এরপরে শুরু হয় যাত্রা নরসিংদি এর দিকে। মেইন রোড কিন্তু কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব বাজার হয়ে তারপর নরসিংদি আসা, আমি অবশ্য অন্য রকমের প্ল্যান করে গ্রামের রাস্তা ধরে চলে আসি কটিয়াদি, মনোহরদি হয়ে শিবপুর হয়ে নরসিংদি। হাল্কা নাস্তা, নামাজ আদায় করে চলা শুরু করি। একটা কম স্পিড ২৫/২৬ kmph এর একটা  ড্রাফটিং করতে করতে চলে আসি রুপগঞ্জ এর দিকে...
আমার সব সময় যেটা হয়, রাইড এর শেষ দিনে “রাইড এন্ড পুশ” শুরু হয়। অনেকেটাই summit push এর মত। সেদিন কেন জানি আর সাইকেল চালাইতে মন চায় না। :D এজন্য দুপুরে নিজেকে কিছু খাইতে দেই নাই। নিজেকে পুশ করেছি এভাবে, “হলে না পৌছা পর্যন্ত তোমার পেটে কোন ভাত পরবে না বাপ্পী।“ :D এবং এটাতে বেশ  কাজ দিয়েছিল। ;) এবং প্ল্যান মত হলে এসে আসরের নামাজ আদায় করে তবেই দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম। J
আর এভাবেই শেষ হয়েছিল আমার ৪ দিনের সলো রাইড বৃহত্তর ময়মসিং অঞ্চল সাইক্লিং ট্যুর।





ট্যুর এর ওভারভিউ দেখে নেই,
Day-1: ঢাকা – জামালপুরঃ ১৮৯.১৯ কিমি.
Day-2: জামাল্পুর-শেরপুর-লাউচাপড়া-গারো পাহাড়-হালুয়াঘাট-দুর্গাপুর(নেত্রকোনা): ১৬৯.৮৮ কিমি.
Day-3:দুর্গাপুর-ময়মনসিং-কিশোরগঞ্জঃ ১৫৮.২৮ কিমি.
;
Day-4:কিশোরগঞ্জ-নরসিংদী-ঢাকাঃ ১৩৯.৭৬ কিমি.
মোট ৬৫৭ কিমি.+
টাচ করা জেলাঃ ঢাকা > গাজীপুর > টাঙ্গাইল > জামালপুর > শেরপুর > ময়মনসিং > নেত্রকোনা > ময়মনসিং > কিশোরগঞ্জ > নরসিংদী > নারায়ণগঞ্জ > ঢাকা 


Thanks...
====> Always feel free to SHARE so that your friends can can know these informations. Keep visiting this blog site for more. U also can submit your email to SUBSCRIBE this blog.

Thanks again. :)





1 comment:

Receive All Free Updates Via Facebook.

Blogger Widgets..

Receive All Free Updates Via Facebook.

Receive All Free Updates Via Facebook.